করলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
করলা এমন একটি সবজি যা খেতে অনেক তিতা। করলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব। করলা তিতা বলে অনেকে খাওয়া থেকে দূরে থাকে। আবার অনেকে খুবই পছন্দ করে করলা খেতে। আমরা করলা খেয়ে থাকি, কিন্তু করলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানিনা। আজকের পোষ্টের মাধ্যমে করলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতার বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব।
করলা এমন একটি সবজি যারা আমাদের শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে থাকে। ডায়াবেটিসের সমস্যার মহৌষধ হল তেতো। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে করলা খুবই উপকারী সবজি। করলা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক,আয়রন ও বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন। সকালে খালি পেটে করলার রস হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। অনেকে করোলা তিতা বলে খেতে পারে না। তারা ভাজি বা ভর্তা করেও খেতে পারেন। তাছাড়া করলা চিংড়ির সাথে ভাজি, ডালের সঙ্গে রান্না করে ও খেতে পারেন। করলাতে রয়েছেন ব্লাড সুগার যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। করলার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে এজমা, ব্রস্কাইটিস, ও শ্বাসরোধের মতো সমস্যা জনিত রোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
করলার পুষ্টিগুণ
- ক্যালোরি 15 গ্রাম
- প্রোটিন 1.3 গ্রাম
- কার্বোহাইড্রেট 3.1 গ্রাম
- ফ্যাট 0.1 গ্রাম
- খাদ্যতালিকাগত ফাইবার 2.2 গ্রাম
- ভিটামিন এ 190 IU
- ভিটামিন সি 23.2 মিলিগ্রাম
- ভিটামিন কে 12.2 মাইক্রোগ্রাম
- পটাশিয়াম 190 মিলিগ্রাম
- ম্যাগনেসিয়াম 24 মিলিগ্রাম
- ক্যালসিয়াম 24 মিলিগ্রাম
- ফসফরাস 20 মিলিগ্রাম
- আয়রন 0.4 মিলিগ্রাম
করলা খাওয়ার উপকারিতা
করলার হাজারও উপকারিতার মধ্যে সামান্য কিছু করলার খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা থেকে জেনে নেই-
ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ: করলার ৩০টি উপকারিতা ও অপকারিতা-করলা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করছি আর ডায়াবেটিসের বিষয়টা আমরা এড়িয়ে যাব সেটা হতেই পারে না। একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য করলার জুস অত্যন্ত নিরাপদ। এর কারণ করলার জুসে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ১৭ এবং এর গ্লাইসেমিক লোড হল মাত্র ০. ৬৭।
এর সাথে সাথে ১০০ গ্রাম কোরলাতে কার্বোহাইড্রেট থাকে মাত্র ১৭ গ্রাম। এছাড়াও করলার মধ্যে চ্যারেনটিন এবং পলি পেপটাইড পি নামক বিশেষ এক ধরনের বায়ো কম্পাউন্ড রয়েছে যেগুলো আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এর জন্য আপনার ডায়াবেটিস কন্ট্রোল প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করলার জুস খেতে পারেন। সবকিছু মিলেমিশে একজন ডায়াবেটিস রোগী নিঃসংকচে, নির্দ্বিধায় করলা খেতে পারেন।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করে: করলা গ্যাস্ট্রিক জনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর করে পেট পরিষ্কার করে ও হজম শক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে ফলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা সহজে দূর হয়ে যায়। কারণ এটি অত্যন্ত ফাইবার সম্পূর্ণ সবজি।
হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে: করলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ফলিক এসির যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে সাহায্য করে ফলে আপনার খাদ্য তালিকায় নিয়মিত করলা রাখতে পারেন।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস সারাতে সহায়তা করে: করলায় অত্যন্ত পাওয়ারফুল বা শক্তিশালী আন্টি ইনফরমেটরি, ফাইবার গুণ রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের মতো সমস্যা দূর করতে বিশেষ সাহায্য করে থাকে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ: আপনি যদি নিয়মিত ১০০ গ্রাম করলা খেতে পারেন তাহলে একজন মানুষের সারাদিনে যত পরিমানে ভিটামিন সি এর প্রয়োজন তার ৯৩% পর্যন্ত পূরণ করতে পারে করলা। সাধারণত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে শরীর সুস্থ ও সরবর রাখার জন্য একজন ব্যক্তির দৈনিক গড়ে ৪৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খাওয়া উচিত।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: করলা পাওয়ার হাউজ অফ ভিটামিন সি। করলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও সংক্রমণ হতে সুরক্ষা প্রদান করে।
রুচি বৃদ্ধি: খাবার প্রতি অরুচি মূলত শরীরে অপুষ্টির অভাবকে বোঝায় এর জন্য খাবারের রুচি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরী এ খাবারের রুচি বৃদ্ধি করার জন্য এক চা চামচ করে অথবা সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করলা জুস খেতে পারেন।
হাড় মজবুত করে: হাড় সুস্থ ও মজবুত রাখার জন্য ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করলাতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম রয়েছে যার কারণে আপনার নিয়মিতভাবে করলা খেলে এটি আপনার হাড়কে শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করবে হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে।
ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, করলা বা করলার জুসে মধ্যে যেমন রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তেমনি এর সাথে সাথে এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার ফাইটিং এজেন্ট। যেগুলি আমাদের শরীরে বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আপনাকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করে: করলার ৩০টি উপকারিতা ও অপকারিতা-করলা খাওয়ার নিয়ম এর মধ্যে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রসেসে রয়েছেন তারা সবচেয়ে ভালোভাবে জানবেন করলার জুস ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য কতটা উপকারী। করলা আমাদের শরীর হতে ফ্যাট সেল গুলোকে ঝরাতে বিশেষ সাহায্য করে এবং নতুন করে চর্বি জমা হতে প্রতিরোধ করে ফলে
ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রসেসে নিয়মিত খালি পেটে এক গ্লাস করলা জুস খেতে পারেন। কারণ করালায় রয়েছে অত্যাধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে বিটক্সিফাই করে পরিপাকতন্ত্র উন্নত করে এবং অ্যাডি অ্যাডিপোজ কোষ অর্থাৎ যেখানে ফ্যাট জমা হয় তা বন্ধ করে বিশেষ সাহায্য করে।
রক্তশূন্যতা দূর করে: রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে রক্তের উপাদান বাড়ানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা রাখে করলার জুস। এর জন্য যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তারা রক্তশূন্যতা দূর করার উত্তম খাবার হিসেবে করলা বেছে নিতে পারেন।
টিউমার প্রতিরোধ করে: আমাদের শরীরের মধ্যে যাতে কোন প্রকারের ম্যালিগ্রেইন টিউমারের উৎপত্তি না হয় সেদিক থেকে বিশেষ সাহায্য করে নিয়মিত এক গ্লাস করলার জুস।
এলার্জি বা অ্যাজমা কমাতে সহায়তা করে: করলা বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বিশেষ করে অ্যাজমা বংকাইটিস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ সাহায্য করে। করলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি হিস্টামিন, এন্টি ইনফর্মেটরি ও এন্টিভাইরাল আর এ সকল গুন আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে সুস্থ ও সুরক্ষা রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে: নিয়মিতভাবে আপনি যদি সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করলার জুস খেতে পারেন তাহলে করলার জুসের মধ্যে থাকা প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, বিটাকারোটিন এবং বিভিন্ন প্রকারের হাই পাওয়ারফুল এন্টিঅক্সিডেন্ট আর এইগুলি আমাদের রক্ত থেকে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা কম করতে সাহায্য করে, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কম করতে সাহায্য করে এবং আমাদের কার্ডিওভাসকুলার হেলথকে প্রটেক্ট করে রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক সুস্থ রাখে: কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যার কারণে আপনি যদি করলা জুসের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে খান তাহলে এটি আপনার রক্ত পরিষ্কার করবে যার কারণে আপনার ত্বকে ব্রণ, একজিমা, সোরিয়সিস ইত্যাদি দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
চুল পাকা প্রতিরোধ করে: অকালে চুল পাকা প্রতিরোধ করতে ১০ থেকে ১২ দিন পর পর করলার জুস ও অ্যালোভেরা একসঙ্গে মিশে পাকা চুলের গোড়ায় মাসাজ মাসাজ করবেন দেখবেন কিছুদিনের মধ্যে অকালেকে যাওয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে: করলা বা করলার জুসে রয়েছে এন্টিবিলিয়ন এবং সেক্রেটিভ প্রপার্টি যা আমাদের স্ট্রেস লেভেলকে কম করতে সাহায্য করে এবং আমাদের ব্লাড প্রেসার এর লেভেলকে মেন্টেন করে রাখতে সাহায্য করে। তাই যদি আপনি একজন ব্লাড প্রেসারের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি তেতো করলার সবজি হিসেবে অথবা জুস হিসেবে খেতে পারেন আপনার ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।
রক্ত পরিষ্কার রাখে: বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের মতে নিয়মিত করলা সবজি বা জুস করে খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় এজন্য আপনি করলার জুসের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন এটি আপনার রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।
কৃমিনাশক: কৃমিনাশক হিসেবে বিশেষ ঔষধ হিসেবে পরিচিত করলাম এর জন্য নিয়মিত সকালে খালি পেটে করলার জুস খেয়ে পেট হতে খুব সহজে কৃমি মুক্ত করুন।
অনিদ্রা দূর করে: নিয়মিত করলা বা করলার জুস খেলে অনিদ্রার মত সমস্যা ও দূর হয় এবং প্রশান্তির ঘুম হতে সাহায্য করে এছাড়াও দ্রুত ক্ষত নিরাময়, রক্ত জমার নিয়ন্ত্রণ, চোখে ছানি পড়া, শক্তিবর্ধক অর্থাৎ স্ট্যামিনা বাড়ানো, ডাইয়া ও পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ইত্যাদি আরো হাজারো উপকারিতা রয়েছে করলার জুসে।
করলার খাওয়ার অপকারিতা
কোন খাবার খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই কিভাবে খেলে বা বেশি পরিমাণে খেলে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে তা জানা অত্যন্ত জরুরি তাই এখন আমরা করলার খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো-
করলা অবশ্যই আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে তবে এক গ্লাস তেতো করলার জুসে যে পরিমাণে চ্যারেনটিন এবং পলি পেপটাইড পি নামক যে বায়ো কম্পাউন্ড থাকে তা আপনার সম্পূর্ণভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ প্রসেসে কখনোই এক গ্লাস করলার জুসের উপর নির্ভর না করে ডায়াবেটিসের ওষুধের পাশাপাশি এক গ্লাস নিয়মিত ভাবে করলা জুস অবশ্যই খেতে পারেন।
গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে তিতা জাতীয় খাবার বিশেষ করে করলা না খাওয়া সবচেয়ে ভালো কারণ এতে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায় কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে করলা খেলে মাসিকের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
অল্প বয়সের বাচ্চাদের বা শিশুদের কলার জুস থেকে দূরে রাখবেন কারণ এটি বাচ্চাদের পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বিশেষ করে পেটে ব্যথা, বদহজম, বমি ভাব, ডায়রিয়া পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বাচ্চাদের কৃমিনাশক হিসেবে অল্প করে রান্না করা করলা সবজি খাওয়াতে পারেন।
অতিরিক্ত পরিমাণে করলার জুস খেলে লিভার ইনফ্লামেশন হতে পারে অর্থাৎ লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
করলা খাওয়ার নিয়ম
করলা আমরা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি তবে আপনি যদি মেডিসিনাল বা স্বাস্থ্য উপকারী করলার দ্বারা পেতে চান তাহলে অবশ্যই করলা জুস করে খেতে হবে তবে আপনার যদি করলার জুস খেতে সমস্যা হয় তাহলে গোটা করলা সেদ্ধ করে খেতে পারেন এছাড়া রান্না করে সবজি আকারে ও খেতে পারেন।
তবে এতে এর পুষ্টিগুণ আগুন কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়। অবশ্যই মনে রাখবেন তেতো করলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বিধায় বেশি পরিমাণে খাবেন না এর কারণ বেশি পরিমাণে তেতো করলার জুস খেলে বেশ কিছু মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যেমন ধরুন- গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, ডায়রিয়ার মত সমস্যা।,নিয়মিত ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম করলা জুস খাবেন। করলার জুস তৈরি করার জন্য প্রথমে করলাকে ভালো করে ধুয়ে কেটে নেবেন এবং ভেতর হতে বিচি বের করে নেবেন।
এবার একটি ব্লেন্ডারের সাহায্যে সামান্য পানি ব্যবহার করে ব্লেন্ড করে নেবেন। ব্লেন্ড করা হয়ে আসলে ছাকনির সাহায্যে রসগুলো বের করে নেবেন। এবার এর ভেতরে পানি ব্যবহার করে হাত বাড়ানোর জন্য মধু কিংবা লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগী মধু ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। করলার জুসের সঙ্গে হাফ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এজমা, ব্রংকাইটিস ও গলার প্রদাহ থেকে অনেক বেশি উপকৃত পাবেন। এছাড়াও করলা যে কোন ধরনের সবজি কিংবা মাছের সঙ্গে অথবা শুধুমাত্র করলার ভাজি তৈরি করে খেতে পারেন। তবে আপনি যদি করলা ভাজি আকারে রান্না করেন তাহলে এর পুষ্টিগুন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে। এর জন্য জুস করে বা সেদ্ধ করে অথবা যে কোন প্রকার সবজির সঙ্গে রান্না করে খেতে পারেন।
ওজন কমাতে করলা কিভাবে খাবেন?
ওজন কমানোর জন্য আপনি করলা বিভিন্নভাবে খেতে পারেন তবে সবচেয়ে উত্তম হল জুস করে খাওয়া। এর জন্য প্রথমে করলা ভালো করে ধুয়ে ব্লেন্ডারে জুস তৈরি করে নেবেন এরপর করলা জুসে আপনার ইচ্ছা অনুসারে লেবু কিংবা মধু মিশিয়ে খেতে পারেন এটি ওজন কমানোর সবচাইতে উত্তম উপায়।
গর্ভাবস্থায় করলা খাওয়া যাবে কি
করলা বাচ্চা কিংবা বড় সকলের জন্য অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি খাবার তবে গর্ভ অবস্থায় কলা খাওয়া যাবে কিনা এই নিয়ে এখনো অনেক বিতর্ক রয়েছে। অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে গর্ভবতী মহিলা গর্ভ অবস্থায় করলার জুস খেলে বাচ্চার বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ক্ষতি হতে পারে এছাড়াও সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো গর্ভপাতের মত সমস্যা হতে পারে কারণ
তেতো জাতীয় খাবার মহিলাদের ঋতুস্রাবের বৃদ্ধি করে। কারণ করলাতে রয়েছে ভাসিনা অণু যা রক্তাল্পতা ঘটায়। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে কেরালায় গ্লাইকোসাইড, কুইনাইন, মোমোর্ডিকা ইত্যাদির মতো অনু রয়েছে যা শরীরের বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে ফলে
একজন গর্ভবতী মহিলার শরীরে ক্লান্তি ভাব, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত লালা উৎপাদন, দৃষ্টিশক্তি, অন্তের ব্যথা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বদহজম ইত্যাদির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলো জানার পরও যদি আপনি গর্ভাবস্থায় করলা খেতে চাইলে অবশ্যই আপনার ডক্টরের সাথে পরামর্শ করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
করলা নিয়ে প্রচলিত একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে তেতো খাও ভেতো বাঙালি অর্থাৎ বাঙালিরা ভাত বেশি খায় বিধায় তাদের বিভিন্ন প্রকারের স্বাস্থ্যঝুঁকের সম্মুখীন হতে হয়। আর সেসকল স্বাস্থ্যঝুকে কে কম করতে পারে তেতো যুক্ত খাবার। আর এ তেতো খাবারের সর্ব ওপরে রয়েছে করলা। করলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী যা আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি।
পরিশেষে বলতে চাই আপনি যেই খাবারই খান না কেন পরিমিত পরিমানে খাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই সঠিক নিয়ম অনুযায়ী খাবেন তাহলে দেখবেন সেই খাবারে বেশ ভালো উপকার পাবেন। এই ছিল আজকের করলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত সকল তথ্য। এখানে সংক্ষেপে বিস্তারিত জানাতে চেষ্টা করেছি। এর বাইরেও আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি।
তো বন্ধু আশা করছি আপনি আমার এই পোস্টটি পড়ে করলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এরপরও বুঝতে অসুবিধা হলে কমেন্ট করে জানাবেন। আর্টিকেলটি আপনার পরিচিতদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারেন। এতে করে তারাও করলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবে। ধন্যবাদ।